Showing posts with label জৈব যৌগ. Show all posts
Showing posts with label জৈব যৌগ. Show all posts

Monday, January 4, 2016

জৈব যৌগের নামকরণ-(শেষ পর্ব)

শিখনফল: IUPAC পদ্ধতিতে জৈব যৌগের নামকরণ করতে পারবে।



এই পর্বে আমরা চক্রিয় যৌগ (অ্যালিফেটিক) এবং বিশেষ করে অ্যারোমেটিক (বেনজিন ও জাতক) যৌগসমূহের নামকরণ শিখব।

সরল শিকল হাইড্রোকার্বনের নিয়ম অনুসরণ করে নামের আগে সাইক্লো (cyclo) শব্দ বসিয়ে চক্রিয় যৌগগুলির নামকরণ করা হয়। যেমন-


আগের পাঠ থেকেই আমরা জানি, যৌগের গঠনে ৩টি C পরমানু এবং একক বন্ধন বিশিষ্ট হাইড্রোকার্বন বলে এটির নাম হবে প্রোপেন। শুধু যৌগটি চক্রিয় বলে এর নামের আগে সাইক্লো শব্ধটি বসিয়ে যৌগটির নামকরণ করা হয়েছে সাইক্লোপ্রোপেন।

অনুরূপভাবে-

(৫টি কার্বন এবং একটি দ্বিবন্ধন)


এভাবে সাইক্লো শব্ধটি বসিয়ে চক্রিয় অ্যালিফেটিক হাইড্রোকার্বনের নামকরণ করা হয়।

সাধারণত বেনজিন এবং বেনজিনের মত চক্র বিশিষ্ট যৌগসমূহ অ্যারোমেটিক হয়।
অ্যারোমেটিক যৌগের নামকরণে প্রথমেই মাতৃ চক্রের নাম, প্রতিস্থাপিত মূলকের অগ্রাধিকার, অবস্থান, বর্ণানুক্রম এসব বিষয়ের উপর ভিত্তি করে নামকরণ করতে হয়।

কিছু মাতৃ অ্যারোমেটিক চক্র-


এইবার নিচের অ্যারোমেটিক যৌগগুলির নামকরণ দেখি-

(মাতৃ বেনজিন চক্রে ক্লোরিন প্রতিস্থাপিত মূলক। তাই ক্লোরোবেনজিন)


অনুরুপভাবে-



একক প্রতিস্থাপিত মূলক যুক্ত কিছু বেনজিন চক্রের সাধারণ নাম রয়েছে। নিচের যৌগগুলিকে IUPAC স্বীকৃত মূলনাম হিসেবে বিবেচনা করা হয় (কার্যকরী মূলকের অগ্রাধিকার ক্রমে লেখা হলো)।






দ্বিপ্রতিস্থাপিত বেনজিন যৌগের নামকরণ-

প্রথম প্রতিস্থাপকের কার্বন কে ১নং কার্বন বিবেচনা করে এর স্বাপেক্ষে দ্বিতীয় প্রতিস্থাপক তিনটি সম্ভাব্য অবস্থানে প্রতিস্থাপিত হতে পারে। এই অবস্থান তিনটিকে অর্থো, মেটা এবং প্যারা বলা হয়। সংক্ষেপে এদেরকে o-, m- p- দ্বারা চিহ্নিত করা হয়।

(এখানে X এর স্বাপেক্ষে Y প্রতিস্থাপিত মূলক)

যেমন-



প্রচলিত নামের কিছু দ্বিপ্রতিস্থাপিত যৌগ-



আরও কিছু নাম (কার্যকরী মূলকের অগ্রাধিকার অনুসারে ১নং কার্বন নির্ধারণ করা হয়েছে)-



আশা করি এই নিয়মগুলো অনুসরণ করে এবং বেশি বেশি অনুশীলন করে আমরা IUPAC পদ্ধতিতে জৈব যৌগের নামকরণ করতে পারব।

নামকরণ কর-
i)                    CH3CH2CH(CH3)-C(CH3)3
ii)                  C(CH3)3- C(CH3)3
iii)                Cl3C-NO2
iv)                CH3CHCl2
v)                  CH3-CH2-CH=CH2
vi)                CH2=CHBr
vii)              (CH3)2C=C(CH3)2
viii)            CH3-C(CH3)=CH-CH=CH2
ix)                CH3-CH(Cl)-C(CH3)=CH2
x)                  CH3-CH(CH3)CH=C(CH3)-CH(CH3)2
xi)                (CH3)2CHCH=CHCH2COCH3
xii)              CH3-C≡C-C(CH3)3
xiii)            CH3-CH(Br)-C≡C-CH3
xiv)            (CH3)3C-OH
xv)              BrCH2CH2CH(OH)CH3
xvi)            OH-CH2-CH(OH)-CH2-OH
xvii)          CH3-CH(Cl)-CH(OH)-CH(CH3)-CH2-CH3
xviii)        CH3-CH(OH)-CH2-CHO
xix)            CH3-CH=CH-CO-CH3
xx)              CH3-CH2-CH(CHO)-CH2-CH(CH3)-CH3
xxi)            CH3-CH2-CO-CH2-C(CH3)3
xxii)          CH≡C-CH2-CHO
xxiii)        CH3-CH(OH)-CO-CH3
xxiv)        CH3-CO-CH(CH3)-CH2Br
xxv)          CH3-CH(CH3)-CH(NH2)-COOH
xxvi)        HOOC-COOH
xxvii)      CH3-CH(CH3)-CH(Cl)-COOH
xxviii)    CH3-(CH2)2-CH(Cl)-CH2(NH2)-COOH
xxix)        CH3-CH=CH-COOH
xxx)          CH3-(CH2)3-O-C3H7
xxxi)        ClCH2-CH2-N-(CH3)2
xxxii)      CH3-CH(N(CH3)2)-CH2-CH3
xxxiii)    CH3-CO-N(CH3)2
xxxiv)    CH3-CO-O-CH2-CH3
xxxv)      CH3-COOC6H5













Wednesday, December 30, 2015

জৈব যৌগের নামকরণ-৪

শিখনফল: IUPAC পদ্ধতিতে জৈব যৌগের নামকরণ করতে পারবে।


আগের পর্বের ধারাবাহিকতায় এই পর্বে আমরা জৈব যৌগে উপস্থিত কার্যকরী মূলক অনুসারে prefix suffix সমূহ বসিয়ে নামকরণ শিখব।


যৌগটির দীর্ঘতম শিকলে ৪টি কার্বন পরমানু এবং ১ নং অবস্থানে কার্বন-কার্বন দিবন্ধন অর্থাৎ অ্যালকিনের কার্যকরী মূলক রয়েছে। আর আমরা জানি, অ্যালকিনের জন্য কার্বন পরমাণুর সংখ্যা অনুসারে মূলশব্ধ (word root) এর পর পরপদ (suffix) হিসেবে ইন (-ene) বসে। তাই যৌগটির নাম বিউট-১-ইন।

লক্ষ্য করি, IUPAC নামকরণে অবস্থান সূচক একাধিক সংখ্যা কমা (,) এবং শব্ধ ও সংখ্যার মাঝে হাইফেন বসে।


এই যৌগটিতে দ্বিবন্ধন দুইবার আছে তাই ডাইইন।

অনুরুপভাবে ৩,৪,৫ ইত্যাদি বারের জন্য ট্রাই, টেট্রা, পেন্টা ইত্যাদি শব্ধ বসবে। একই নিয়ম যেকোন একাধিক কার্যকরী মূলকের জন্য প্রযোজ্য।

ইন-আইন যৌগের অবস্থান নির্ণয়।


এই যৌগটিতে একই সাথে দ্বিবন্ধন ও ত্রিবন্ধন রয়েছে। কিন্তু দুই ধরনের বন্ধনের মধ্য ত্রিবন্ধন (-আইন) ক্ষুদ্রতর অবস্থানে রয়েছে এবং যেদিক থেকে সংখ্যায়িত করলে দ্বিবন্ধন অথবা ত্রিবন্ধন যেটিকে আগে পাওয়া যাবে সেদিক থেকে সংখ্যায়িত করতে হবে।

কিন্তু যদি দ্বিবন্ধন ও ত্রিবন্ধন একই অবস্থানে থাকে তবে সেক্ষেত্রে দ্বিবন্ধন (-ইন) কে ক্ষুদ্রতম অবস্থানে রাখতে হবে। যেমন-


ইন ও আইন উভয়ই ১ নং অবস্থানে রয়েছে। কিন্তু অগ্রাধিকার ক্রম** অনুসারে (**অগ্রাধিকার ক্রমের নিয়মের বিস্তারিত নিম্নে আলোচনা করা হয়েছে) ইন কে ক্ষুদ্রতম অবস্থানে রেখে নামকরণ করা হয়েছে। 

এবার আরেকটি যৌগ লক্ষ্য করি।



এই যৌগটিতে একই দীর্ঘতম শাখায় একটি অ্যালকাইল মূলক এবং একটি কার্বন-কার্বন দ্বিবন্ধন রয়েছে। একই মূলশিকলে একাধিক কার্যকরী মূলক বা প্রতিস্থাপিত মূলক থাকলে নিম্নলিখিত অগ্রাধিকার ক্রম অনুসরণ করতে হবে।

একাধিক প্রতিস্থাপিত বা কার্যকরী মূলক বিশিষ্ট জৈবযৌগের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার ক্রম।(** চিহ্ন বিশিষ্টগুলো বেশী গুরুত্বপূর্ন)

-COOH (কার্বোক্সিলিক এসিড)**
-SO3H (সালফানিক এসিড
-COX (এসিড হ্যালাইড)
-CONH2 (অ্যামাইড)
-CN (সায়ানাইড)
- CHO (অ্যালডিহাইড)**
-CO- (কিটোন)**
-OH (অ্যালকোহল)**
-NH2  (অ্যামিন)
alkene (double bond)**
alkyne (triple bond)**
alkane
-OR (ইথার)
-X (হ্যালাইডস) (-F (ফ্লোরো)>-Cl ( ক্লোরো) > -Br ( ব্রোমো )> -I (আয়োডো )
-NO2 (নাইট্রো)
-R (অ্যালকাইল)

এবং এই ক্রম অনুসারে যেটি উপরে থাকবে সেটিকে মূল যৌগ বিবেচনা করে ন্যূনতম অবস্থানে রেখে নামকরণ করতে হবে।
এই নিয়ম অনুসারে যেহেতু দ্বিবন্ধনের অবস্থান অ্যালকাইল মূলকের উপরে তাই উপরের যৌগটির নাম হবে ৪-মিথাইলপেন্ট-২-ইন।

এইবার আমরা বিভিন্ন ধরনের জৈব যৌগের নামকরণ অনুশীলন করবো।

অনুশীলনের সুবিধার্থে নিচে কিছু উদাহরণ দেওয়া হলো। প্রত্যেকটির নামকরণ বোঝার চেষ্টা কর।
     
                   

(তিনটি অ্যালকোহল মূলক)

(প্রথমটিতে কিটোনের কার্যকরী মূলক, এবং দ্বিতীয়টিতে অ্যালডিহাইডের)

(এক কার্বন তাই মিথানোয়িক এসিড, তবে যৌগটি ফরমিক এসিড নামে বেশী পরিচিত)


(অগ্রাধিকার ক্রম অনুসরণ করে নামকরণ করা হয়েছে)


(অগ্রাধিকার ক্রমে অ্যালডিহাইড-এর কার্বন ১নং এ রেখে দীর্ঘতম শিকল নির্ণয় করা হয়েছে)


(কার্বোক্সিলিক এসিডের কার্বন সবসময় ১নং)



(দীর্ঘতম শিকল নির্ণয় ও হ্যালোজেনের নামকরণে ইংরেজি বর্নানুক্রম)



(অ্যামিন প্রতিস্থাপক সমূহকে সংখ্যার পরিবর্তে N,N দ্বার চিহ্নিত করতে হয়)


আগামী পর্বে আমরা চক্রিয় যৌগসমূহের নামকরণ শিখব।


Monday, December 28, 2015

জৈব যৌগের নামকরণ-৩

শিখনফল: IUPAC পদ্ধতিতে জৈব যৌগের নামকরন করতে পারবে।


আগের পর্বগুলোতে আমরা সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন তথা অ্যালকেনের নামকরণ শিখেছি। যেমন-


যৌগটির দীর্ঘতম শিকলে  ৫টি  C পরমাণু, ক্ষুদ্রতম দিক থেকে ২ নং অবস্থানে শাখা হিসেবে একটি মিথাইল মূলক, আর কার্বন-কার্বন একক বন্ধন এই বিষয়গুলি হিসেব করে আমারা এখন বলতে পারি যৌগটির নাম ২-মিথাইলপেন্টেন।

এখন এই নামের প্রতিটি অংশ লক্ষ্য করি।

  • এই সংখ্যাটি দীর্ঘতম শিকলে শাখা বা কার্যকরী মূলকের অবস্থান নির্দেশক সংখ্যা।
  • মিথাইল-এটি মূল হাইড্রোকার্বন শিকলে শাখায় যুক্ত অ্যালকাইল মূলকের নাম। এটিকে উপপদ (prefix) বলে।
  • পেন্ট-মূল হাইড্রোকার্বন শিকলে কার্বনের সংখ্যা। এটি শব্ধ মূল বা (word root)
  • এন-এটি যৌগের প্রকৃতি অনুযায়ী যুক্ত হওয়া পরপদ (suffix)

আগের পর্বের নিয়মগুলো অনুশীলন করে এবং নিচের ছকে দেওয়া যৌগের প্রকৃতি তথা কার্যকরী মূলক অনুযায়ী prefix suffix এর নাম বসিয়ে পরবর্তী পর্ব গুলোতে আমরা অন্যান্য জৈব যৌগের নামকরণ শিখব।

group name
structure
prefix
suffix
alkane 
-H3C-CH3-

ane (-এন)
alkene 

-ene    (-ইন)
alkyne 

           
-yne (-আইন
alcohol
R-OH 
hydroxy (হাইড্রোক্সি
-ol (-অল)
aldehyde
R-CHO
oxo- (formyl) অক্সো (-ফরমাইল)
-al (অ্যাল)
ketone
R-CO-R
oxo-              (অক্সো)  
-one (ওন)
carboxylic acid
R-COOH
carboxy-         কার্বোক্সি
-oic acid (-ওয়িক এসিড)
amine
R-N= (-NH2)
amino- (অ্যামিনো)
-amine (-অ্যামিন)
alkyl
R= -CH3, -CH2CH3, ইত্যাদি
alkyl- (অ্যালকাইল)

CH3-
methyl- (মিথাইল)

CH3CH2-
ethyl- (ইথাইল)



isopropyl-


tert-butyl or t-butyl

alkoxy
R-O-
alkoxy- (অ্যালকোক্সি)

halogen
F-
fluoro- (ফ্লুরো)

Cl-
chloro- (ক্লোরো

Br-
bromo- (ব্রোমো)

I-
iodo- (আয়োডো)

nitro
NO2-
nitro- (নাইট্রো)

vinyl
CH2=CH-
vinyl- (ভিনাইল)

allyl
CH2=CH-CH2-
allyl- (অ্যালাইল)

phenyl

phenyl- (ফিনাইল)



নামকরণ করার চেষ্টা কর: